আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আগে যেমন ছিল, তাঁদের একটা জেল দেওয়ারও ক্ষমতা ছিল আইনে। ব্যাপারগুলো এমনভাবে নষ্ট করা হয়েছে, এটা টাইম নেবে একটু। আইন সংশোধন করা, শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সময় লাগবে। কিন্তু এর আগে আমরা ভাবছি যে আমাদের তো হার্ডলাইনে যেতে হবে, না হলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা আইনে যাঁরা একদম কি পারসন আছেন বিভিন্ন সিন্ডিকেটের; প্রয়োজনে করপোরেটের যেসব কোম্পানি এটা করছে ইচ্ছাকৃতভাবে—আমাদের কাছে কিছু রিপোর্ট আছে—আমরা তাদের বিশেষ ক্ষমতা আইনে অ্যারেস্ট করব।’
এখন চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট কারা নিয়ন্ত্রণ করছে—এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আগে যে সিন্ডিকেট ছিল, সেটা আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ন্ত্রণ করত। কিন্তু সিন্ডিকেটের ভেতরে তো ব্যবসায়ীরাই বসে ছিলেন। তাঁরা এখনো রয়ে গেছেন। তাঁদের ব্যবসায়িক স্বার্থ বাঁচাতে কোনো কোনো রাজনীতিবিদের সঙ্গে লিয়াজোঁর মাধ্যমে সিন্ডিকেট টিকিয়ে রেখেছেন। সে ক্ষেত্রটা আমরা শনাক্ত করছি। সেটা অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করছি।’
তিনি বলেন, ‘কারাওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হলে সেই জায়গায় অন্যজন রিপ্লেস হয়ে যায়। আমরা গোড়াটা শনাক্ত করার চেষ্টা করছি, কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকেও সহায়তা করতে হবে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো যদি আগের সেই ইভিল প্র্যাকটিসে (বাজে চর্চা) ঢুকে যায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত যে পরিবর্তনের জন্য এত মানুষ জীবন দিয়েছে, সেটা সম্ভব হবে না। প্রতিটি পক্ষকে সহায়তা করতে হবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি বিষয় পরীক্ষিত হচ্ছে যে, তারা যেকোনো অন্যায় বা দুর্নীতির ক্ষেত্রে নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে আরও প্রান্তিক পর্যায়ে তারা যদি এটা বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে লোকাল পর্যায়ের দুর্নীতিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’
বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাব।

0 Comments